google-site-verification=0gYvQ-GEf6xx7n9m8L4kBORRnazBWwqZSSilspQTR5w
ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নিকোলা মাদুরোকে আটক ও ভেনেজুয়েলা ‘চালানোর’ ঘোষণা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Jan 4, 2026 ইং
নিকোলা মাদুরোকে আটক ও ভেনেজুয়েলা ‘চালানোর’ ঘোষণা ছবির ক্যাপশন:
ad728

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, আপাতত যুক্তরাষ্ট্রই ভেনেজুয়েলা ‘চালাবে’। এই ঘোষণা এবং মাদুরোকে গ্রেপ্তারের ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের সনদ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতা নিয়ে অভূতপূর্ব আইনি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযানের পূর্ণ আইনি ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি। তবে অতীতের নজির, বিশেষ করে ১৯৮৯ সালে পানামার নেতা ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে গ্রেপ্তারের ঘটনা এবং বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিওর বক্তব্য থেকে প্রশাসনের আইনি অবস্থান সম্পর্কে কিছু ধারণা মিলছে। পেন্টাগনের দাবি, মাদুরোকে তুলে আনার অভিযান ছিল বিচার বিভাগের প্রতি ‘সহায়তা’, ঠিক যেমন নরিয়েগা অভিযানের সময় বলা হয়েছিল।

শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ভেনেজুয়েলা এখন যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে চলবে এবং দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে তাঁর নির্দেশ মানতে বাধ্য করা হবে। তবে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি একটি সার্বভৌম দেশ পরিচালনা করবে—এর কোনো স্পষ্ট আইনি ভিত্তি তিনি ব্যাখ্যা করেননি। আন্তর্জাতিক আইনবিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কার্যত একটি অবৈধ দখলদারত্বের মতো শোনাচ্ছে।

কারডোজো স্কুল অব ল–এর অধ্যাপক রেবেকা ইংবার বলেন, আন্তর্জাতিক আইন বা মার্কিন ঘরোয়া আইনের কোথাও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভেনেজুয়েলা ‘চালানোর’ বৈধ পথ নেই। এমন পদক্ষেপ নিতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন ও তহবিল প্রয়োজন হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, জাতিসংঘের সনদের ২(৪) অনুচ্ছেদ অন্য দেশের সার্বভৌম ভূখণ্ডে অনুমতি ছাড়া বা আত্মরক্ষা ব্যতীত শক্তি প্রয়োগ নিষিদ্ধ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে মাদুরোকে গ্রেপ্তার ও ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালানো ওই সনদের লঙ্ঘন বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এর আগে পানামা অভিযানের ক্ষেত্রেও জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছিল।

মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকেও অভিযুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে আনা হয়েছে, যদিও তিনি ২০২০ সালের মূল অভিযোগে ছিলেন না। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে মার্কিন আদালতের অতীত নজির অনুযায়ী, আসামিকে কীভাবে আদালতে আনা হয়েছে—তা বিচারের ক্ষেত্রে সাধারণত গুরুত্ব পায় না।

রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মাদুরো কি দায়মুক্তি পাবেন—এই প্রশ্নও সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক আইনে রাষ্ট্রপ্রধানদের বিদেশি আদালতে বিশেষ ছাড় থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, তিনি একজন মাদক পাচারকারী চক্রের নেতা, রাষ্ট্রপ্রধান নন। পানামার নরিয়েগা মামলার মতো নজিরের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, মার্কিন আদালত মাদুরোর রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়মুক্তির দাবি নাকচ করতে পারে।

সব মিলিয়ে, মাদুরোকে গ্রেপ্তার এবং ভেনেজুয়েলা পরিচালনার ঘোষণা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘের সনদ ও মার্কিন সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা নিয়ে এক জটিল ও নজিরবিহীন আইনি সংকট তৈরি করেছে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Jatio Khobor

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
চ্যাম্পিয়নস লিগ: ৪৩ গোল, ৫ লাল কার্ড ও ৬ পেনাল্টির অবিশ্বাস্

চ্যাম্পিয়নস লিগ: ৪৩ গোল, ৫ লাল কার্ড ও ৬ পেনাল্টির অবিশ্বাস্