খ্যাতির শিখরে থাকা অবস্থায় দিব্যা ভারতীর আকস্মিক মৃত্যু বলিউডকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। তিন দশকের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও তার মৃত্যুর পেছনে থাকা প্রশ্ন ও রহস্য এখনো উদ্ঘাটিত হয়নি।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে মুম্বাই বিস্ফোরণের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শুরু করা হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্পে তাঁর আবির্ভাব ছিল এক নতুন তাজা হাওয়া। ‘বিশ্বত্মা’ ছবির মাধ্যমে ১৯৯২ সালে অভিষেক হলেও ‘সাত সমুন্দর পার’ গানটি তাঁকে রাতারাতি জনপ্রিয় করে তোলে। এরপর ‘শোলা অউর শবনম’, ‘দিওয়ানা’, ‘দিল আশনা হ্যায়’–সহ একের পর এক ছবিতে তিনি বলিউডের চাহিদাসম্পন্ন নায়িকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে এক বছরে ১২টির বেশি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়া দিব্যার রেকর্ড আজও অক্ষত।
তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ছিল জটিল। গোপনে প্রযোজক সাজিদ নাদিয়াদওয়ালাকে বিয়ে করেছিলেন, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাম পরিবর্তন করে ‘সানা’ রাখেন। এই গোপন সম্পর্ক এবং ক্যারিয়ারের চাপ তাকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করেছিল বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
৫ এপ্রিল, মুম্বাইয়ের ভার্সোভার বাড়িতে ঘটেছিল মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। মদ্যপান শেষে তিনি জানালার কার্নিশে বসে ভারসাম্য হারিয়ে পাঁচতলা থেকে নিচে পড়ে যান। হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি মারা যান, তখন তাঁর বয়স মাত্র ১৯।
দিব্যার মৃত্যু নিয়ে নানা তত্ত্ব ওঠে—দুর্ঘটনা, আত্মহত্যা বা হত্যাকাণ্ড। পুলিশি তদন্তে তাঁর রক্তে উচ্চমাত্রার অ্যালকোহল পাওয়া যায় এবং ১৯৯৮ সালে প্রমাণের অভাবে মুম্বাই পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে মামলাটি বন্ধ করে দেয়।
দিব্যার ঘনিষ্ঠ গৃহপরিচারিকা অমৃতার রহস্যজনক মৃত্যু, এবং তাঁর অসমাপ্ত ছবি পরে অন্য অভিনেত্রীদের দিয়ে শেষ করা হওয়া—এসব কারণে মৃত্যুর রহস্য আজও তাড়া করে ফেরে। দিব্যা ভারতীকে স্মরণ করা হয় শুধু সৌন্দর্য ও প্রতিভার জন্য নয়, বরং তাঁর শেষ রাত ঘিরে থাকা রহস্যের জন্যও।
Jatio Khobor