বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পাশে সমাহিত হন। দাফন শেষে সশস্ত্র বাহিনী তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর প্রধানরাও সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান।
দাফন অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, ছোটভাই আরাফাত রহমানের স্ত্রী শামিলা রহমান, ছোট মেয়ে জাফিরা রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সরকারী কর্মকর্তা, বিদেশি অতিথি এবং বিএনপি মনোনীত রাজনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন। দাফনকাজ নির্বিঘ্নে সম্পন্নের জন্য নির্ধারিত ব্যক্তিদের ছাড়া কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এর আগে বুধবার বেলা ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা। এটি দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম জানাজা হিসেবে ধরা হয়। মানুষের ভিড় সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে এক মহাসমুদ্রের রূপ নেয়।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজার নামাজ পড়ান। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর জানাজায় উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশি-বিদেশি শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। শেষ বিদায়ে অংশ নেন পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আইয়াজ সাদিক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তিন বাহিনীর প্রধানরা এবং অন্যান্য রাজনৈতিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। জানাজায় নারীদের অংশগ্রহণের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
জানাজার আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম তুলে ধরেন। পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মায়ের জন্য দোয়া চান।
বেগম খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায় জানাতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ মানিক মিয়া এভিনিউ অভিমুখে সকাল থেকেই ঢল নেমে আসে। সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে খামারবাড়ি, আসাদগেট, ফার্মগেটসহ আশপাশের প্রতিটি এলাকা লোকে ভরে যায়। মূল ভ্যেনুতে পৌঁছাতে না পারায় আশপাশের রাস্তাতেই মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে জানাজায় অংশ নেন। জনতার ঢল পৌঁছে যায় কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি, ধানমন্ডি থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত।
বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে মানিক মিয়া এভিনিউয়ে আনা হয় খালেদা জিয়ার মরদেহ। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো মরদেহের সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানাজার সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব ও ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
Jatio Khobor