দ্বিতীয়বারের মতো বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন জনপ্রিয় উপস্থাপক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রাফসান সাবাব। দীর্ঘদিনের প্রেমিকা ও সংগীতশিল্পী জেফার রহমানের সঙ্গে গত বুধবার ঘরোয়া আয়োজনে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তিনি। অনুষ্ঠানে বিনোদন অঙ্গনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। নাচ, গান আর হাসি–আনন্দে ভরে ওঠে জেফার–রাফসানের বিশেষ দিনটি।
বিয়ের মাত্র দুদিন পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইঙ্গিতপূর্ণ একটি পোস্ট দেন রাফসানের সাবেক স্ত্রী, চিকিৎসক সানিয়া শামসুন এশা। পোস্টে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও বিনোদন অঙ্গনে অনেকেই মনে করছেন, লেখাটি মূলত জেফার ও রাফসানকে ঘিরেই।
ফেসবুক পোস্টের শুরুতে সানিয়া শামসুন লেখেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষই জানে বর্তমানে কী ঘটছে এবং সত্যটা কী। এ বিষয়ে আমার আর বেশি কিছু বলার প্রয়োজন মনে করি না।’ তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
উল্লেখ্য, জেফার রহমান ও রাফসান সাবাবের সম্পর্ক নিয়ে গুঞ্জন শুরু হলেও দীর্ঘ সময় তাঁরা সেটিকে গুজব বলে দাবি করেছিলেন। একসঙ্গে দেশ–বিদেশে ভ্রমণের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও নিজেদের কেবল বন্ধু ও সহকর্মী হিসেবেই পরিচয় দিতেন তাঁরা। এর মধ্যেই প্রায় দুই বছর আগে প্রকাশ্যে আসে রাফসান সাবাবের প্রথম সংসার ভাঙনের খবর। তিন বছরের দাম্পত্য জীবনের অবসানের বিষয়টি রাফসান নিজেই জানান। পরে সানিয়া শামসুন বলেন, এই বিচ্ছেদ তিনি চাননি।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জেফার–রাফসান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়। তখনও জেফার রহমান স্পষ্ট করে বলেন, রাফসানের ডিভোর্স তাঁর ব্যক্তিগত বিষয় এবং তাঁর সঙ্গে কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই। দীর্ঘ দুই বছর ধরে অস্বীকার ও নীরবতার পর অবশেষে বিয়ের মাধ্যমে তাঁদের সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যেদিন জেফার ও রাফসানের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়, সেদিনই ছিল রাফসানের সাবেক স্ত্রীর জন্মদিন।
আজ শুক্রবার দেওয়া আরেকটি ফেসবুক পোস্টে সানিয়া শামসুন এশা জানান, তিনি আর কারও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভাবতে বা জড়াতে চান না। তিনি লেখেন, ‘আমি একটি অত্যন্ত কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গেছি। অনেক কিছু সহ্য করেছি, গভীর মানসিক আঘাত পেরিয়ে এসেছি এবং সেই অবস্থান থেকে উঠে এসে নিজের জন্য কিছু অর্জন করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি।’
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই কঠিন সময়ে পরিচিত–অপরিচিত অনেক মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থন তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। এজন্য তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পোস্টের শেষাংশে সানিয়া শামসুন জানান, বর্তমানে তাঁর সম্পূর্ণ মনোযোগ নিজের জীবন ও ক্যারিয়ার গড়ার দিকে। তিনি লেখেন, ‘আমি এমন কিছু তৈরি করতে চাই, যা কোনো কঠিন সময়ে আমাকে ছেড়ে যাবে না। আমি আর আমার অতীত পরিচয়ে বেঁচে থাকতে চাই না। আমি চাই আমার পরিচয় হোক একটাই—“ডা. এশা”।’
Jatio Khobor