বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা (ইমিগ্র্যান্ট ভিসা) প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তবে পর্যটক, ব্যবসায়িক কিংবা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি ভিসাধারীরা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বেন না।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ ছাড়াও দক্ষিণ এশিয়ার চার দেশ—পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ভুটান ও নেপালের নাগরিকরা প্রভাবিত হবেন। পাশাপাশি লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল, বলকান অঞ্চল, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে।
এই পরিবর্তন কেবল তাঁদের জন্য প্রযোজ্য হবে, যাঁরা স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের উদ্দেশ্যে অভিবাসী ভিসার আবেদন করেছেন বা করতে চান। ভ্রমণ, পর্যটন কিংবা স্বল্পমেয়াদি ভিসার ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।
আগামী পাঁচ মাস পর কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে যৌথভাবে ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন প্রেক্ষাপটে অভিবাসী, শরণার্থী ও বিদেশি শিক্ষার্থীসহ ভিসা আবেদনকারীদের ওপর একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় পর্যটন ও বৈশ্বিক ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কী বলছে মার্কিন প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ঘোষিত তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আপাতত বন্ধ রাখতে কনস্যুলেটগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত নভেম্বরে জারি করা এক নির্বাহী আদেশের ধারাবাহিকতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই আদেশে সম্ভাব্য অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারেন কি না, সে বিষয়ে যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ট্রাম্প প্রশাসন এমন অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধ করতে চায়, যার মাধ্যমে কিছু মানুষ আমেরিকান জনগণের সম্পদ ব্যবহার করছে।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “এই ৭৫টি দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে। এ সময়ের মধ্যে অভিবাসন প্রক্রিয়া পুনর্মূল্যায়ন করা হবে, যাতে সরকারি জনকল্যাণমূলক তহবিল ও সুবিধা গ্রহণের উদ্দেশ্যে কেউ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না পারেন।”
কোন কোন দেশ তালিকায় রয়েছে
অভিবাসী ভিসা স্থগিত হওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ ছাড়াও আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, ইরান, ইরাক, সিরিয়া, লিবিয়া, নাইজেরিয়া, রাশিয়া, মিয়ানমার, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেনসহ মোট ৭৫টি দেশ। তালিকায় আফ্রিকা, এশিয়া, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের একাধিক দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ভিসা স্থগিতের প্রক্রিয়া যেভাবে কার্যকর হবে
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকেরা অভিবাসী ভিসার আবেদন জমা দিতে পারবেন। তবে স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকাকালে কোনো আবেদন অনুমোদন বা ভিসা ইস্যু করা হবে না। এই স্থগিতাদেশ কতদিন চলবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।
দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। কোনো আবেদনকারী যদি তালিকার বাইরে থাকা দেশের বৈধ পাসপোর্ট ব্যবহার করে আবেদন করেন, তাহলে তিনি এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবেন।
এ সিদ্ধান্ত নন-ইমিগ্র্যান্ট, অস্থায়ী, পর্যটন কিংবা ব্যবসায়িক ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
অভিবাসন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যান্য পদক্ষেপ
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন অভিবাসন আইন আরও কঠোর করেছে। যেসব দেশের তথ্য যাচাই ও নিরাপত্তা প্রক্রিয়া দুর্বল বলে বিবেচিত, সেসব দেশের নাগরিকদের ওপর বিধিনিষেধ বাড়ানো হয়েছে। গত বছর জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউস জানায়, নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সরকারি সম্পদের চাপ এড়াতে বিপুলসংখ্যক শরণার্থী গ্রহণ সম্ভব নয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত জুনে ১২টি দেশের নাগরিকদের ওপর পূর্ণ ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পরে আরও কয়েকটি দেশকে সেই তালিকায় যুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে ২০২৬ অর্থবছরের জন্য শরণার্থী গ্রহণের সর্বোচ্চ সীমা কমিয়ে মাত্র ৭ হাজার ৫০০ নির্ধারণ করা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বনিম্ন।
এ ছাড়া দক্ষ জনশক্তির অভিবাসন সীমিত করতে এইচ-১বি ভিসার আবেদন ফি ব্যাপকভাবে বাড়ানোসহ বৈদেশিক সহায়তা কর্মসূচি কমিয়ে আনার মতো সিদ্ধান্তও নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।
Jatio Khobor