ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটকে ‘বাটুল অ্যান্ড ম্যাক্স’ পরিচিতির কেন্দ্রবিন্দু আছেন এরিকা কঙ্কন রায়। বাটুল ও ম্যাক্স—দুটি বিড়াল—এরিকার কাছে কেবল পোষা প্রাণী নয়, সন্তানসুলভ ভালোবাসার প্রতীক।
কিন্তু ৯ অক্টোবর এরিকার জীবনে শূন্যতার দিন আসে, যখন তাঁর আদরের পার্সিয়ান বিড়াল ম্যাক্স ৯ বছর বয়সে কিডনির জটিলতায় মারা যায়। প্রিয় ম্যাক্সকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগে এরিকা ও স্বামী সনি সাহা সিদ্ধান্ত নেন, ম্যাক্সের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটি সমাধি তৈরি করবেন। গত নভেম্বরে সমাধি নির্মাণের কাজ শেষ হয়।
এরিকা প্রথম আলোকে বলেন, ‘ম্যাক্স পার্সিয়ান বিড়াল হলেও দেশি বা বিদেশি বিষয় নয়; সে আমার কষ্ট বুঝতে পারত, কান্না করলে আমার পাশে আসত।’ ম্যাক্স অসুস্থ হয়ে পড়লে কলকাতার চিকিৎসকের পরামর্শে অনলাইনে চিকিৎসা চালানো হয়, কিডনির ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট আনা হয়, তবে শেষ পর্যন্ত আর কিছু করার ছিল না।
ম্যাক্সের সমাধি বরিশালে তাঁদের কেনা জমিতে খ্রিষ্টধর্মীয় রীতিতে স্থাপন করা হয়। কালো বেদির ওপর সাদা সমাধিতে লেখা আছে, ‘ফরএভার ইন আওয়ার হার্টস’ এবং বাংলায়, ‘তুমি মা বলে ডাকো’। অনলাইনেও সমাধি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের সমালোচনা হয়েছে, তবে অনেকেই এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছেন।
ম্যাক্সকে প্রথমে অন্য বাসায় ঝুলে থাকতে দেখা যায়, পরে এরিকা কয়েক দিনের জন্য সামলান এবং শেষ পর্যন্ত বিনা মূল্যে নিজের কাছে রাখেন। ধীরে ধীরে ম্যাক্স ও বাটুলের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। এরিকা ফেসবুক ও ইউটিউবে তাদের দৈনন্দিন জীবন তুলে ধরেন, যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
এরিকা ছোটবেলা থেকেই পশুপাখি ভালোবাসেন। বর্তমানে তিনি দুটি পথকুকুর এবং একটি পাখি পোষেন। তিনি বলেন, ‘বাটুল আর ম্যাক্সকে নিজেদের ছেলের মতোই ভালোবেসেছি। ম্যাক্সের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে তাকে সম্মান জানাতে সমাধি বানিয়েছি। হয়তো অনেকের কাছে এটা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে, তবে আমাদের জন্য এটি আবেগ ও ভালোবাসার প্রতীক।’
Jatio Khobor